✍️ আল্লামা বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর
মুসলিম তিয়াত্তর দলে বিভক্ত। তদ্মধ্যে একটি দল মুক্তি লাভকারী; আর বাকি বাহাত্তর নরকগামী! এই বাহাত্তরের প্রতিটি দলে রয়েছে বিভিন্ন উপদল। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামার ভাষ্য অনুযায়ী মুক্তি লাভকারী দল, مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي ، رواه الترمذي ( 2641 ) “যেইটি আমি এবং আমার সাহাবীরা যার উপর আছি, সেটার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে” তিরমিযী ২৬৪১ নাম্বার হাদীস। আলোচিত হাদীসের আলোকে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের পরিচয় পরিজ্ঞাত। এই পরিচয় হৃদয়ে গেঁথে রাখুন।
এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার রওযাহ শরীফে আবূ আইয়ূব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র সালাম নিবেদনের ধরণ দেখুন।
:جمعية دار الحديث الزيتونية
أخرج ابن أبي خيثمة في تاريخه – (ج 1 / ص 444) قال:حَدَّثَنا إبراهيم بن الْمُنْذِر ، قال : حدثنا سفيان بن حمزة ، عن كثير بن زيد ، عن المطلب بن حنطب ، قال : جاء أبو أيوب الأَنْصَارِيّ يريد أن يُسَلّم على رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء مَرْوَان وهو كذلك فأخذ برقبته ، فقال : هل تدري ما تصنع ؟ فقال : قد دريت أني لم آتِ الخدر ولا الحجر ولكني جئت رسول الله صلى الله عليه وسلم ، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : “لا تبكوا على الدين ما وليه أهله ، ولكن ابكوا على الدين إذا وليه غير أهله”.قلت:إسناده حسن،وصححه الحاكم والذهبي وحسنه السّبكي والسمهودي والصالحي الدمشقي،والمناوي.
জাম্’ঈতু দারিল হাদীসিয্ যায়তুনিয়্যাহ্: ইবনু আবূ খাইসামাহ্ তাঁর তারীখে ( প্রথম খণ্ড, ৪৪৪ পৃষ্ঠা) সংকলন করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহীম ইবনুল মুনযির আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে সুফিয়ান বিন হামযাহ্ কাসীর বিন যায়্দ থেকে, তিনি মাত্বলব বিন হানত্বাব থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে সালাম নিবেদনের উদ্দেশ্যে আবূ আইয়ুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এলেন, অতঃপর মারওয়ান এল , এমতাবস্থায় তিনি ওই অবস্থায় ( অর্থাৎ সালাম নিবেদন রত) ছিলেন। অতএব সে ( মারওয়ান) তাঁর গ্রীবা ধরে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কি জানো, তুমি কি করছো? প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ জানি, আমি কোন কুঠির ও পাথরের কাছে আসিনি; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘দীনের জন্য কেঁদো না, যখন তার শাসক-অভিভাবক যোগ্য হয়, পরন্তু দীনের ওপর কেঁদো যখন তার শাসক-অভিভাবক অযোগ্য হয়’।
আমি বলি: হাদীসটি হাসান। হাকিম ও যাহাবী হাদীসটি সহীহ বলেছেন এবং মানাভী, দামেশক্বী, ছালেহী, সামহূদী ও সুবুকী হাসান বলেছেন।
এখানে আবূ আইয়ুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাম নিবেদনের কায়ফিয়াত বা ধরণ স্পষ্ট শব্দে উল্লেখ নেই, কিন্তু ( ওয়া হুয়া কাযালিকা বা তিনি ওই অবস্থায় ছিলেন) বাক্যে ইঙ্গিত অবশ্যই আছে। এবার আসুন, তাঁর সালাম নিবেদনের ধরণ কেমন ছিল? একটু জেনে নিই,
وأخرجه أحمد بن حنبل في مسنده من طريق آخر قال:حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي صَالِحٍ قَالَ:أَقْبَلَ مَرْوَانُ يَوْمًا فَوَجَدَ رَجُلًا وَاضِعًا وَجْهَهُ عَلَى الْقَبْرِ فَقَالَ أَتَدْرِي مَا تَصْنَعُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ فَإِذَا هُوَ أَبُو أَيُّوبَ فَقَالَ نَعَمْ جِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ آتِ الْحَجَرَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَبْكُوا عَلَى الدِّينِ إِذَا وَلِيَهُ أَهْلُهُ وَلَكِنْ ابْكُوا عَلَيْهِ إِذَا وَلِيَهُ غَيْرُ أَهْلِهِ.
এবং আহমদ বিন হাম্বাল অন্য সনদে আপন মাসনদে সংকলন করেছেন, —————– ” একদা মারওয়ান এসে এক ব্যক্তিকে ( রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামার) ক্ববর শরীফের ওপর মুখ স্থাপক অবস্থায় পেয়ে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কি জানো, তুমি কি করছো? অতঃপর মুখোমুখি হলে দেখতে পেল, তিনি আবূ আইয়ূব। প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসেছি, কোন পাথরের কাছে আসিনি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‘দীনের জন্য কেঁদো না, যখন তার শাসক-অভিভাবক যোগ্য হয়, পরন্তু দীনে ওপর কেঁদো যখন তার শাসক-অভিভাবক অযোগ্য হয়’। হাদীসটি হাকিম তাঁর মুস্তাদরিকে, ইবনু আসাকির তারীখে দামেশ্ক্বে এবং ত্বাবরানী আওসাতে সংকলন করেছেন।
আমরা জানি যে, সিজদা হল, وضع الجبهة على الأرض বা ভূমিতে ললাট স্থাপন। উক্ত হাদীস মর্মে জানা যায়, হযরত আবু আইয়ূব আনসারী শুধু কপোল নয়, পুরো মুখ ক্ববর শরীফের ওপর স্থাপন করেই সালাম নিবেদন করেছেন। কপাল না রেখে মুখ রাখার কোন সুযোগ আদৌও কি আছে? এটিকে সিজদা বলুন আর যা- ই বলুন, এখন যারা পীর- মুর্শিদ ও অলিয়ুল্লাহদের সম্মান নিবেদন করেন, ঠিক ওই রূপেই করেন। ওখানে মদীনার অযোগ্য ওয়ালী মারওয়ান তাঁর ঘাড় ধরেছিল আর এখন মৌলভী তাঁদের ঘাড়ে কুফর – শিরক ও হারামের অপবাদ আরোপ করছেন!
দীন কেউ সাহাবীয়ে রাসূল আবূ আইয়ূব আনসারী থেকে শিখল, আর কেউ ওয়ালীয়ে মদীনা মারওয়ান থেকে; দুইজনের মধ্যে কে সঠিক?
আবূ আইয়ূব খালেদ আনসারী সে মহান সত্ত্বা, যিনি শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কিরামের অন্যতম; ইসলামের প্রতি আগমনকারীদের মাঝে অগ্রগামী প্রাথমিক পর্যায়ের; বায়’আতে আক্বাবাহ্ এবং বদরসহ সকল যুদ্ধে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সাথে অংশগ্রহণকারী। সবিশেষ উল্লেখ্য যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মদীনা আগমনের পর তাঁর আতিথিয়তা গ্রহণ করেছেন এবং মসজিদ ও হুজারা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ঘরেই অবস্থান করছেন।
মারওয়ানের লায়েক উত্তরসূরী মৌলভীদের ফতোয়ার দৌরাত্ম্যের যুগে দীনের ওপর মুসলিমদের করুণ ক্রন্দন কে শুনবে? হুসাইনী চেতনায় কেউ কোষবদ্ধ তলোয়ার বের করলো তো আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সমঝ নিয়ে হাসানী অসিয়ত স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিবৃত্ত করতে অনেকেই এগিয়ে আসেন কিন্তু মারওয়ানী ধূর্তামি নিয়ে কেউ টুঁশব্দটিও করে না!
যাই হোক, কেউ হযরত আবূ আইয়ূব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র অনুসরণ করছেন তো , কেউ মারওয়ানের; প্রত্যেকের আপন আপন ভাগ্য। শিরোভাগে উল্লিখিত হাদীসে পাকের ভাষ্য অনুসারে কারা সুন্নী, সেটি স্পষ্ট। সুতরাং মারওয়ানী মোল্লার কথায় কিছুই যায় আসে না।
সাহাবীয়ে রাসূল হযরত আবূ আইয়ূব খালেদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র কর্ম থেকে সনদ উপস্থাপনের পর আউলিয়ায়ে ইযামের কর্ম থেকে সনদ উপস্থাপনে মনোনিবেশ করছি।
গাউসুল আ’যম শাহানশাহে বাগদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী গ্রন্থসমূহে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রাচীন কিতাবের অন্যতম ” বাহজাতুল আসরার”। এই কিতাবের ذكر من حنا رأسه من المشائخ عندما قال ذلك
“তিনি ( গাউসে পাক) ওই উক্তি ( আমার এই চরণ আল্লাহর সকল অলীর কাঁধে) যখন করেন, তখন যেসব মাশায়িখ আপন মাথা ঝুঁকিয়েছেন; তাঁদের বর্ণনা” শীর্ষক অধ্যায়ের একটি পরিচ্ছেদ এখানে উল্লেখ করছি; যাতে তাঁরা তাঁদের মস্তকসমূহ কতটুকু ঝুঁকিয়েছেন, তার সঠিক তথ্য জানা যাবে।
قال حضرت بالبصرة و أنا صبي مع والدي أبي الفتح عند الشيخ القدوة أبي محمد بن موسىٰ بن عبد الله البصري رضى الله عنه، وكان يتكلم على أصحابه فقطع كلامه وسها ساعة وسكت كل من حاضرا إجلالا له، ثم وضع رأسه على الأرض، وقال: على رأسي، فلما دخل داره دخل أبي معه وأنا خلفهما فقال له أبي وكان يدل عليه: يا سيدي بالحق العزيز إلا ما أخبرتني بسبب هذا الفعل والقول اللذين رأيناهما منك، فقال قد قال الشيخ عبد القادر اليوم ببغداد: قدمي هذه على رقبة كل ولي لله، و لم يبقى ولي في الأرض حتى فعل مثل ما رأيتني فعلت، قال فأرخ أبي ذلك اليوم وسافر إلى بغداد وأنا معه، فأخبرنا أن الشيخ عبد القادر قد قال في اليوم الذي أرخه أبي بالبصرة –
বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার বাবা আবূল ফাত্হের সাথে বসারায় আশ্শায়খ আলক্বুদ্ওয়াহ্ আবূ মুহাম্মদ বিন মূসা বিন আব্দুল্লাহ আলবসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খিদমতে উপস্থিত হই, তখন আমি শিশু ছিলাম। শায়খ তখন আপন শিষ্যদের মাঝে কথা বলছিলেন। অতঃপর তাঁর কথা বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি কিছুক্ষণ অন্য মনস্ক হয়ে যান। যারা উপস্থিত ছিলেন সবাই তাঁর সম্মানে চুপ করে রইলেন। অতঃপর তিনি আপন মাথা ভূমিতে রেখে দিলেন এবং বললেন, ” আমার মাথার ওপর”। অতঃপর তিনি যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন আমার বাবাও তাঁর সাথে প্রবেশ করেন এবং আমি তাঁদের উভয়ের পেছনে ছিলাম। অতঃপর আমার বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তাঁর সাথে অন্তরঙ্গতাপূর্ণ কথা বলতেন, ” হে আমার সরদার! পরাক্রমশালী প্রভুর শপথ,এই কাজ ও কথার কারণ আমাকে জানান দিন, আপনার থেকে যার প্রকাশ আমরা দেখেছি- শুনেছি”। প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, ” অবশ্যই আজ শায়খ আব্দুল ক্বাদির বাগদাদে বলেছেন, ‘ আমার এই চরণ আল্লাহর সকল অলীর কাঁধে’। আর জগতে এমন কোন অলী অবশিষ্ট রইল না যে, যিনি আমাকে যা করতে দেখেছো, এমনটি করেননি”। আমার পিতা ওই তারিখটি লিখে রাখলেন এবং বাগদাদ অভিমুখে যাত্রা দিলেন, আমিও তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর আমাদের সংবাদ দেওয়া হয় যে, শায়খ আব্দুল ক্বাদির ওই দিনই ওই কথাটি বলেছেন, যেই তারিখটি আমার পিতা লিখে রেখেছিলেন। সূত্র: বাহজাতুল আসরার ওয়া মা’দিনুল আনওয়ার, নূরুদ্দীন আবূল হাসান আলী বিন ইউসুফ বিন জারীর আল্লাখামী আশ্শাত্ব্নূফী, ৩৫ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বায়রুত- লেবনান।
এখানে একটু মনোযোগ দিন, ثم وضع رأسه على الأرض، وقال: على رأسي অতঃপর তিনি আপন মাথা ভূমিতে রেখে দিলেন এবং বললেন, ” আমার মাথার ওপর”। কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি ভূমিতে মাথা রাখতে গেলে কপালও রাখতে হয়।
ভূমিতে মাথা রেখে দেওয়াকে আপনি সিজদা বলুন, আর নাইবা বলুন, সেটি আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার; কিন্তু অলী ভক্তরা আপন পীর মুর্শিদ কিংবা অলী আউলিয়ার সম্মানে তা-ই করেন।
উক্ত বর্ণনাসূত্রে আরো জানা যায় যে, শায়খ আবূ মুহাম্মদ বিন মূসা একা এই কাজটি করেননি বরং ভূপৃষ্ঠের সকল অলীও করেছেন। এতে প্রতিভাত যে, সেই সময় কালে গাউসে আ’যম শাহানশাহে বাগদাদ মাসজূদ বা সিজদাকৃত আর সকল আউলিয়া সাজিদ বা সিজদাকারী; আপনাদের ভাষায় সিজদা পার্টি।সেই সময়কার সকল আউলিয়ার সম্মিলিত ওই কাজ এবং তাতে গাউসুল আ’যম শাহানশাহে বাগদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর সম্মতির প্রেক্ষিতে ওলীয়ুল্লাহদের ইজমাইতো সাব্যস্ত হয়।
বাহাজাতের উক্ত বর্ণনা সূত্রে আরো প্রতিভাত যে, স্বয়ং গাউসুল আ’যম আব্দুল ক্বাদির জীলানী ছিলেন সিজদা পার্টি। “সিজদা পার্টির সাথে আমাদের সম্পর্ক নেই” উক্তির মাধ্যমে অজান্তেই কেউ আপন সিলসিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল-তো তার বঞ্চনার ওপর মাতম মানানোর ফুরসৎ আমাদের নেই।
বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন যে, ওই সময়কার সকল আউলিয়া কি মূর্খ সূফী ছিলেন?
এখন (ثم وضع رأسه على الأرض، وقال: على رأسي) (অতঃপর তিনি আপন মাথা ভূমিতে রেখে দিলেন এবং বললেন, ” আমার মাথার ওপর”) এ সঠিক তথ্য বিশ্বাস করে অলিয়ুল্লাহরা সিজদা পার্টি ছিলেন মানবেন, নাকি মারওয়ানী ধূর্তামিতে ” অতঃপর তিনি মাথা যমীনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘ আমার মাথার উপর” রূপান্তরিত বিকল্প সত্যে আস্থা রেখে ওটা অলিয়ুল্লাহদের উপর অপবাদ জানবেন? সত্য সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের কাজ, লালন পালন করা না করা আপনাদের মর্জি। আপনার মানা না মানা নিয়ে আমাদের কিছু যায় আসে না; এতদসত্ত্বেও এই টুকু বলবো, বিজ্ঞ অনুবাদকদের অনুবাদের চাতুর্য্যে ঢাকা পড়া প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও কোন অলী সিজদা পার্টি ছিলেন না দাবি সত্যের অপলাপ বৈ কিছুই নয়। বাস্তবতা হলো, অলিয়ুল্লাহরা সিজদা পার্টি ছিলেন, কিন্তু এই অনুবাদকের মতো হাজারো প্রকাশনার চৌর্যবৃত্তিতে সেই তথ্য অনেকটা চাপা পড়ে গিয়েছে।
এবার সুলত্বানুল হিন্দ খাজা গরীব নাওয়াযের আমলে একটু মনোযোগ দিন।
খাজা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আপন বায়’আত গ্রহণের বর্ণনায় বলেছেন,
صحبت میں بڑے بڑے معظم و محترم مشائخ کبار جمع تھے،میں ادب سے حاضر ہوا اور روۓ نیاز زمین پر رکھدیا –
“সাহচর্যে বড় বড় মর্যাদাবান ও সম্মানিত শীর্ষস্থানীয় মাশায়েখ সমাবেশিত ছিলেন। আমি আদবসহ উপস্থিত হয়ে আবেদনানন ভূমিতে রেখে দিলাম”। সূত্র: সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীবে নাওয়ায আলাইহির রহমাহ, ডক্টর মাওলানা মুহাম্মদ আছিম আ’যমী, পৃষ্ঠা:৮৩, ফারূক্বীয়্যাহ বুক ডিপো, দিল্লি।
মুখ ভূমির উপর রাখলে নিঃসন্দেহে কপালও ভূমিতে ঠেকে। সর্বজন বিদিত যে, ভূমির উপর কপোল রাখাই সিজদা। সুলত্বানুল হিন্দের এই কর্মের উপর না খাজা উসমান হরনী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, না উপস্থিত বড় বড় মাশায়িখে কিরাম অভিযোগ তুলেছেন। বিবেককে একবার প্রশ্ন করুন, ঐ সকল বুযুর্গানে দীন কি মূর্খ সূফী ছিলেন?
এবার গাউসুল আ’যম শাহানশাহে মাইজভাণ্ডারের সম্মুখের চিত্র প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় পর্যবেক্ষণ করুন।
و شيخنا المكرم مرشدنا المعظم المجمع الكملات المنبع الفيوضات تصرفاته الظاهرة خوارق وتلوناته الباطنة حقائق شواهد المعانى اثاره ومقاصد المعانى اسراره ذاته المقدسة طور يتجلى نور التقدس من سماته وطبعه الشريف نور يتلألئ فيض التنزه من صفاته مكاشفته رموزات اوحىٰ الى عبده ما اوحىٰ ومشاهدته غموزات اسرىٰ بعبده الىٰ ما اسرىٰ المتخلق بأخلاق الله المتصف بأصاف الله غوث الله فى بلاد الله الجناب الشاه مولانا احمد الله قدس سره اظلنا الله فى ظلال عاطفته إلى يوم لاظل فيه إلا ظل رحمته لما كان فى المصر العريف بالمئجبهندار الشريف متجليا على منصة المحبوبية بجمال يوسفى تجلوا بتشاهده النواظر و متكيا على عرش الغوثية بكمال قدسي يروق بتراقبه البصائر ملئى ملئى من شيوخ الدهر يأتون في جنابه المعلى تحببا لحضرته فيضعون الجباه على سدته تعظيما لعلو شانه والوف الوف من اخوة العصر ىلتجئون إلى عتبته تأدبا لجنابه فيخرون على الأذقان سجدا تكريما لرفعة مكانه لكن لم ير قط من حضرت العليا أثر الجحودلذٰلك السجود –
“আমাদের মহা মর্যাদাময় শায়খ, মহান মুর্শিদ, সমূহ পূর্ণতার সমাবেশ, দান-প্রাচুর্যসমূহের উৎস, তাঁর প্রকাশ্য কর্তৃত্বাদি সমুদয় অলৌকিক, গুপ্ত রূপসমূহ বাস্তবতা, নিদর্শনাদি মর্মাদির স্বাক্ষ্য, রহস্যাদি মর্মের অভিষ্ট, পবিত্র সত্তা জ্যোতিকেন্দ্র; তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে পবিত্রতার নূর বিচ্ছুরিত, তাঁর মর্যাদময় স্বভাব নূর; তাঁর গুণাবলী থেকে পূতপবিত্রতার প্রবাহ চমকিত, তাঁর দিব্যদৃষ্টি ‘তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করেছেন, যা করেছেন’ এর মূলকথা, তাঁর দর্শনাদি ‘পরিভ্রমণ করিয়েছেন আপন বান্দায়, যতদূর করিয়েছেন’ এর নির্যাস, আল্লাহর স্বভাবে স্বভাবময়, আল্লাহর গুণে গুণান্বিত, আল্লাহর জগতসমূহে আল্লাহর মনোনীত গাউস জনাব শাহ্ মাওলানা আহমদুল্লাহ কুদ্দিসা সির্রুহু (আল্লাহ তাঁর দয়ার ছায়ায় সেদিন পর্যন্ত আমাদের ছায়া দিন, যেদিন তাঁর রহমতের ছায়া বিনা কোন ছায়া থাকবেনা) যখন স্বনামধন্য নগর মাইজভাণ্ডার শরীফে ইউসুফী সুন্দর্য নিয়ে প্রেমাস্পদত্বের উচ্চাসনে প্রোজ্জ্বল হন, দৃষ্টিসমূহ তাঁর দর্শনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, পরিপূর্ণ পবিত্রতায় গাউসিয়্যাতের মসনদে অধিষ্ঠান করেন, আঁখিসমূহ তাঁর সাক্ষাতে চমকে উঠে, তখন যুগের শায়খগণ দলে দলে তাঁর সাক্ষাতে তাঁর মহান দরবারে আসতেন অতঃপর তাঁর সুমহান মর্যাদা হেতু তাঁর দ্বারে সম্মান নিবেদনে কপোল রাখতেন এবং সমকালের হাজার হাজার ভ্রাতা তাঁর দরজায় ভক্তি নিয়ে সরণ নিতেন এবং তাঁর বুলন্দ মরতবা হেতু মুখের ওপর পতিত হয়ে সম্মানের সিজদা আরয করতেন; পরন্তু ওই সিজদার ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে অসন্তোষের লেশমাত্র কখনো দৃশ্যত হয়নি”। সূত্র: আত্তাওজীহাতুল বাহিয়্যাহ ফী তারদীদি মা ফীত্তানক্বীহাতিস্ সুন্নিয়্যাহ, আল্লামা সায়্যিদ আমীনুল হক্ব্ ফরহাদাবাদী, ১১-১২ পৃষ্ঠা।
হযরত গাউসুল আ’যম মাইজভাণ্ডারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র সন্মুখে সজিদায় পতিত হযারাতে কিরাম কি মূর্খ সূফী ছিলেন?
মুক্তিধারা 







