✍️আল্লামা জমির উদ্দীন মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম
শরীয়ত বা ধর্মীয় বিধি-বিধান; মানব জাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত পয়গম্বরগণ কর্তৃক আনীত আইনই বটে। শরীয়তে কি আছে? কি নেই? তা কুরআন-সুন্নাহর আলোকেই নিরূপিত। কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান ব্যতীত এটা আছে, ওটা নেই মর্মীয় ফত্ওয়াবাজিতে নৈরাজ্যই সৃষ্টি হয়। এতে ইসলামের ক্ষতি বৈ লাভ কিছুই নেই। আল্লাহর বিচারাদালতে ভুল ফত্ওয়ার দায়ভার ফত্ওয়াদাতার ওপরই বর্তায়। তবুও মানুষ ফত্ওয়াবাজি করে। কেন করে? স্বভাব বশে বুঝে কিংবা না বুঝেই করে চলছে। এ ফত্ওয়াবাজির যেন অন্ত নেই।
অতিসম্প্রতি এক সাধারণ শিক্ষিত, নামাযের পর মুনাজাত শরীয়তে নেই; এমন ফত্ওয়ার শিকার হয়ে আমাদের শরণাপন্ন হন। এতে চট্টগ্রামের বহিরাঙ্গণে এ মাসয়ালার যথার্থ সমাধান আজও জরুরি বিবেচনায় আলোচ্য নিবন্ধের অবতারণা।
আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা-ফরিয়াদই হল দু‘আ-মুনাজাত। হাদীসে পাকের ভাষায় ‘আন্না রাসূলাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা ক্ব-লা আদ্দু‘আ-উ মুখ্খুল্ ‘ইবা-দাতি’ অর্থাৎ “রাসূলুল্লাহ্ (দ.) বলেছেন, ‘দু‘আ ইবাদতের সার” (তিরমিযী-শরীফ, কিতাবুদ্ দু‘আ-ই ‘আন্ রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা, বাবু মা-জা-আ ফী ফদ্ব্লিদ্ দু‘আ-ই, ৫/৪৫৬ হাদীস নম্বর- ৩৩৭১)। হাদীস শরীফে আরো বিবৃত রয়েছে, ‘লায়সা শাইয়ুন আকরামা আলাল্লাহি তা‘আলা মিনাদ্ দু‘আ-ই’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দু‘আ অপেক্ষা সম্মানিত কোন বস্তু নেই’ (তিরমিযী শরীফ ৩৩৭০, ইবনু মাজাহ ৩৮২৯, আসসহীহ্ লি-ইবনি হাব্বান ৮৭০, আল্ মুসতাদরিক লিল্ হাকিম ১৮০১ মসনদে আহমদ ২৫২৩, ইমাম বুখারীর আল্ আদাবুল মুফরাদ ৭১২ নম্বর হাদীস)।
আল্লাহর দরবারে দু‘আ- মুনাজাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া অহঙ্কার এবং অপদস্থ হয়ে নরকে প্রবেশেরই হেতু। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আদ্দু‘আ-উ হুয়াল ‘ইবা-দাতি ছুম্মা ক্বারা‘আ (ওয়া ক্ব-লা রব্বুকুম উদ্‘উ-নী আস্তাজিব লাকুম ইন্নাল্লাযীনা ইয়াস্তাকবিরূ-না আন ‘ইবা-দাতী সাইয়াদখূলূনা জাহান্নামা দা-খিরী-না) [সূরা গাফির ৬০ নং আয়াত] অর্থাৎ “রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেন, ‘দু‘আই ইবাদত’। অতঃপর (দলীল স্বরূপ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, (তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘আমার নিকট প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করবো; যে ব্যক্তি আমার ইবাদত (অর্থাৎ আমার নিকট প্রার্থনা করা) থেকে বিরত ও অহঙ্কার করে, সে অচিরেই লাঞ্ছিত-অপদস্থ হয়ে নরকে প্রবেশ করবে’।) [তিরমিযী শরীফ, ৩২৪৭, ৩৩৭২; আবূ দাউদ শরীফ ১৪৭৯, ইবনু মাজাহ শরীফ ৩৮২৮, নসাঈ’র সুনানে কুবরা ইত্যাদি]
নামাযান্তে দু‘আ-মুনাজাত সম্পর্কীয় আলোচনার পূর্বে একটি বিষয় জ্ঞাতব্য যে, মুসলমান মাত্রই দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-মুসিবত সমস্যা-অসুবিধায় নিপতিত হলেই আল্লাহর দরবারে দু‘আ-মুনাজাত, ফরিয়াদ-আহাজারি ইত্যাদি করেন। পরন্তু এ দু‘আ-মুনাজাত কবুল হওয়ার জন্য একটি শর্ত রয়েছে। রাসূলে খোদা (দ.)’র জবানে পাকে বিঘোষিত, ‘মান্ সাররাহু আয়্ঁ ইয়াস্তাজীবাল্লাহু লাহু ‘ইন্দাশ্ শাদা-য়িদি ওয়াল্ কুরাবি ফালয়ুক্ সিরিদ্ দু‘আ-আ ফীর রাখা-ই-’ অর্থাৎ ‘যে ব্যক্তি দুঃখ কষ্ট, বিপদ-মুসিবতে তার দু‘আ আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়া পছন্দ করে; সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কালে আল্লাহর দরবারে অধিকহারে দু‘আ করে’। (তিরমিযী শরীফ ৩৩৮২, আবূ দাউদ শরীফ ১৪৭৯, ইবনু মাজাহ শরীফ ৩৮২৮, আস্সুনানুল্ কুবরা লিন্ নসাঈ ১১৪৬৪, মসনদে আহমদ ৪/২৬৭-২৭১-২৭৬, আল্ মু’জাম লি-আবী ইয়ালা ৩২৮ নং হাদীস)।
এবার আসা যাক নামাযান্তে দু‘আ-মুনাজাত প্রসঙ্গে। কোন সময়ে দু‘আ আল্লাহর দরবারে সর্বাধিক শ্রুত তথা কবুল হয় সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন, ‘জাওফাল্ লায়্লিল্ আ-খিরি ওয়া দুবুরাস্ সালাওয়াতিল মাকতূ-বাতি’ অর্থাৎ ‘রাতের শেষ প্রহরে এবং ফরয নামাযান্তে (কৃত দু‘আ আল্লাহর দরবারে শীঘ্র কবুল হয়)’। (সূত্র: তিরমিযী শরীফ ৩৪৯৯, সুনানে কুবরা লিন্ নাসাঈ ৯৯৩৬, মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক ৩৯৪৪ নম্বর হাদীস)।
হাদীসে পাকে আরো রয়েছে, ‘আন্নান্ নাবীয়্যা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামা কা-না ইয়াকূ-লু ফী দুবুরি কুল্লি সালাতিন মাকতূবাতিন ওয়া ফী রওয়ায়িতিন লিল্ বুখা-রী আন্না রাসূলাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা কা-না ইয়াকূ-লু ফী দুবুরি কুল্লি সালাতিন ইযা-সাল্লামা ওয়া ফী রাওয়ায়িতি মুসলিমিন কা-না ইযা ফারাগা মিনাস্ সালাতি ওয়া সাল্লামা ক্ব-লা ‘লা-ইলাহা ইল্লা-ল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শরীকা লাহু লাহুল্ মুলকু ওয়ালাহুল্ হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির; আল্লা-হুম্মা লা-মা-নি‘আ লিমা- আ‘ত্বায়তা ওয়া লা- মু‘ত্বিয়া লিমা- মানা‘তা ওয়া লা-ইয়ানফা‘উ যা-ল্ জাদ্দি মিনকাল্ জাদ্দু’। অর্থাৎ “নবী করীম (দ.) প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এরূপ বলতেন; এবং বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, প্রত্যেক নামাযের পর সালাম ফিরালে এরূপ বলতেন; এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, যখন নামায হতে অবসর হতেন এবং সালাম ফিরাতেন, বলতেন: ‘আল্লাহ ভিন্ন উপাস্য নেই তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, বাদশাহী তাঁরই, তাঁর জন্যই সমুদয় প্রশংসা এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাময়। হে আল্লাহ! তুমি যাকে দাও, তা রুখার কেউ নেই, তুমি যাকে বঞ্চিত কর, তার দাতা কেউ নেই এবং কোন ধনীকে তোমার মোকাবিলায় ধন কোন উপকার প্রদান করবেনা”। (সূত্র: বুখারী শরীফ ৮০৮, ৫৯৭১, ৬৩৪১, ৬৮৬২, মুসলিম শরীফ ৫৯৩, তিরমিযী শরীফ ২৯৯, আবূ দাউদ ১৫০৫, নাসাঈ শরীফ ১৩৪১, ১৩৪২ নং হাদীস)।
হাদীস শরীফে আরো বিবৃত আছে যে, হযরত সা’দ (রা.) তাঁর ছেলেদের এসব বাক্যাবলী শিখাতেন যেমন শিক্ষক ছাত্রদের লিখতে শেখায়; এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ (দ.) প্রত্যেক নামাযের পর এসব শব্দাবলী দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (তিনি (দ.) বলতেন) ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল্ জুবনি ওয়া আঊযুবিকা আন্ আরুদ্দা ইলা আরযালিল্ ‘উমরি ওয়া আঊযুবিকা মিন্ ফিত্নাতিদ্ দুন্ইয়া ওয়া আঊযুবিকা মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমি কাপুরষতা থেকে তোমার পানাহ চাই, জীবনের অপদস্থতার প্রতি প্রত্যাবর্তিত হওয়ার থেকে তোমার আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই-দুনিয়ার ফিৎনা-ফ্যাসাদ থেকে, আমি আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে’। (বুখারী শরীফ ২৬৬৭, ৬০০৪, তিরমিযী শরীফ ৩৫৬৭, নাসাঈ শরীফ ৫৪৪৭, মসনদে আহমদ ১৬২১ নম্বর হাদীস)। হাদীসে পাকে আরো ইরশাদ হচ্ছে, ‘ক্বা-লা ঊ-সীকা ইয়া মু‘আযু লা-তাদা‘আন্না ফী দুবুরি কুল্লি সালা-তিন আন তাকূ-লা আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী আলা যিকরিকা ও শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিকা’। অর্থাৎ ‘হে মু‘য়ায! আমি তোমাকে নসিহত করছি যে, প্রতি নামাযের পর এ দু‘আ প্রার্থনা যেন ছুটে না যায়- ‘হে আল্লাহ! তোমার যিকর বা স্মরণ, কৃতজ্ঞতা ও উত্তম রূপে ইবাদত আদায়ে তুমি আমাকে সাহায্য কর’। (সূত্র: আবু দাউদ শরীফ ১৫২২, নসাঈ শরীফ ৯৯৩৭ নম্বর হাদীস)।
উপর্যুক্ত প্রমাণালোকে সুপ্রতিভাত যে, দু‘আ-মুনাজাত ইবাদতই, এ ইবাদত অহঙ্কার-অবজ্ঞায় ছেড়ে দিলে নরকে প্রবেশ অনিবার্য, রাসূলুল্লাহ (দ.) নামাযান্তে নিজেই দু‘আ-মুনাজাত করতেন, অন্যকে করার জন্য তাগিদ দিতেন, সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের ছেলে-সন্তানকে দু‘আ-মুনাজাত শিক্ষা দিতেন। সুতরাং নামাযের পর দু‘আ-মুনাজাত সুন্নাতই সাব্যস্ত।
এবার আমরা দু‘আ-মুনাজাতে হস্ত- উত্তোলনের বিষয় আলোচনার প্রয়াস পাবো। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ক্ব-লা আবূ মূসা আল্ আশ্‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দা‘আন্ নাবীয়্যু সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা ছুম্মা রাফা‘আ ইয়াদায়্হি ওয়া রাআয়্তু বায়া-দ্বা ইব্ত্বায়হি’ অর্থাৎ ‘আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (দ.) দু‘আ করলেন এবং আপন হস্ত মোবারকদ্বয় ওঠালেন; এমনকি আমি তিনি (দ.)’র দু’বগলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করি’। (বুখারী শরীফ ২৩৩৫ নম্বর হাদীস)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আন্ আনাসিন রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু আন্নান্ নাবীয়্যা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা রাফা‘আ ইয়াদায়্হি হাত্তা রাআয়্তু বায়া-দ্বা ইব্ত্বায়্হি’ অর্থাৎ: ‘আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা (দু‘আর জন্য) হাত ওঠালেন, এমনকি আমি তাঁর (দ.) বগল মোবারকের শুভ্রতা দেখি’। (বুখারী শরীফ, কিতাবুদ্ দা‘ওয়া-ত, কিতাবুল ইস্তিসক্বা-ই ও কিতাবুল মানা-ক্বিব)।
এ-তো গেল, দু‘আর সময় হাত তোলার আলোচনা। এবার দেখা যাক, সে হাত মুখে বুলানোর বিষয়ে হাদীসে পাকের দিক নির্দেশনা। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আন্ ‘উমারাবনিল খাত্তাবি রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু ক্ব-লা কা-না রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা ইযা-রাফা‘আ ইয়াদায়্হি ফীদ্ দু‘আ-ই লাম্ ইয়াহুত্তাহুমা- হাত্তা ইয়ামসাহু বিহিমা-ওয়াজ্হাহু’ অর্থাৎ ‘হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (দ.) দু‘আর জন্য যখন হাত তুলতেন, তখন আপন চেহরা মোবারকে মর্দন করার পূর্বে নামাতেন না’। (তিরমিযী শরীফ ৩৩৮৬, মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক ৩২৩৪ নম্বর হাদীস)।হাদীসে পাকে আরো রয়েছে, ‘আন্নান্ নাবীয়্যা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামা কা-না ইযা-দা‘আ-ফারাফা‘আ ইয়াদায়্হি মাসাহা ওয়াজ্হাহু বিইয়াদায়্হি’ অর্থাৎ ‘নবী করীম (দ.) যখনই দু‘আ করতেন, তখন (তজ্জন্য) আপন উভয় হাত মোবারক ওঠাতেন (অতঃপর দু‘আ শেষে) আপন চেহরা মোবারকে হাত ফেরাতেন’। (আবু দাউদ শরীফ ১৪৯২, মসনদে আহমদ ৪/২১১, বায়হাক্বী ২/৪৫ নং হাদীস)। হাদীস শরীফের বর্ণনায় আরো রয়েছে, ‘কা-না রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামা ইয়ারফা‘উ ইয়াদায়্হি ‘ইনদা সাদরিহি ফীদ্ দু‘আ-ই, ছুম্মা ইয়ামসাহু বিহিমা-ওয়াজ্হাহু’ অর্থাৎ ‘রাসূলুল্লাহ (দ.) দু‘আয় আপন হাত মোবারক বক্ষ মোবারক পর্যন্ত উত্তোলন করতেন অতঃপর (দু‘আ শেষে) হাত মোবারক দু’টি দ্বারা আপন চেহরা মোবারক মালিশ করতেন’। (মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক ২/৩৪৭, ৩/১২৩ নং হাদীস)।
রাসূলুল্লাহ (দ.) দু‘আর সময় আপন হাত মোবারকদ্বয় তুলে আপন চেহরা মোবারকে মর্দন শুধু নিজে করেছেন তা নয়, বরং ঐরূপ দু‘আ কবুলের সুসংবাদসহ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘ইন্না রাব্বাকুম হাঈয়ুন কারীমুন, ইয়াস্তাহ্ঈ আয়ঁ ইয়ারফা‘আল্ ‘আব্দু ইয়াদায়্হি ফাইয়ারুদ্দাহুমা- সিফরাল্ লা-খায়রা ফীহিমা-ফাইযা- রাফা‘আ আহাদুকুম্ ইয়াদায়হি ফাল্ইয়াকুল (ইয়া হাঈয়ু লা-ইলাহা ইল্লা-আন্তা ইয়া আরহামার রা-হিমী-ন) সালাসা মাররাতিন ছুম্মা ইযা-রাদ্দা ইয়াদায়্হি ফাল্ইউফরিগা যালিকাল্ খায়রা আলা ওয়াজহিহী।’ অর্থাৎ ‘নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক বড় হায়াশীল-উদার দাতা, তিনি লজ্জা করেন যে, তার কোন বান্দা (দু‘আর জন্য) আপন হস্তদ্বয় তুলবে আর তিনি তা খালি ফিরিয়ে দেবেন যে, তাতে কোন কল্যাণ হবেনা! (অর্থাৎ দু’হাত তুলে দু‘আ করা হলে, তিনি তা কল্যাণে ভরিয়েই দেন।) সুতরাং যখনই তোমাদের কেউ দু‘আর জন্য হাত তুলে, সে যেন- ‘হে লজ্জাময়! তুমি বিনে উপাস্য নেই, হে সর্বোপরি দয়াময়!’ তিনবার বলে। অতঃপর হস্তদ্বয় সরিয়ে নেওয়ার সময় যেন ওই কল্যাণ আপন মুখমণ্ডলে বুলিয়ে নেয়’। (সহীহে ইবনে হাব্বান ৮৭৬ নং হাদীস)।
প্রবন্ধের বিষয়বস্তু আলোকে হাদীসে পাকের বহু বর্ণনা সন্নিবেশ করা যায়। পরন্তু কলেবরে বৃদ্ধি আশঙ্কা এবং বিশ্বাসীদের জন্য এ ক’টিই যথেষ্ট বিবেচনায় এটুকুতেই নিবৃত্ত হলাম। আশা করি নামাযান্তের প্রচলিত দু‘আ বিদ্‘আত নয় বরং সুন্নাত হওয়ার প্রমাণিত সত্য হৃদয়ঙ্গম করতে সকলেই সমর্থ হবেন। আল্লাহ সকলকে আমল করার তৌফিক ইনায়ত করুন। আমীন বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া ‘আলা আলিহিত্ ত্বায়্যবীন ওয়া খোলাফা-য়িহির রাশিদীন ওয়া আসহাবিহিল হাদীয়্যিনাল্ মাহ্দীয়্যিন ওয়া ‘আলা উলামায়ি উম্মাতিহির রাসিখীন ওয়া আউলিয়া-য়ি মিল্লাতিহিল কামিলীনাল্-মুকাম্মিলীনাল মুকাম্মালীন।
মুক্তিধারা 







