০৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইয়া মুহাম্মাদু আহবান? [ ৩য় পর্ব ]

  • মুক্তিধারা
  • Update Time : ০৭:২০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৯৪ Time View

✍️ আল্লামা বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর

[ ৩য় পর্ব ]

প্রবন্ধের শিরোনামালোক আলোচনায় ইতোপূর্বে পনেরটি তাফসীর গ্রন্থের উদ্ধৃতি উদ্ধৃত হয়েছে। ইতোমধ্যে আমার এক শিক্ষকের নসিহত মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছিলেন, সহজবোধ্য ও সকলের নাগালের পুস্তকের তথ্য উপস্থাপন করবে,যাতে সকলে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। সুতরাং ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যখানে এমন একটি উদ্ধৃতি নিয়ে এলাম।

حضور کی تعظیم و توقیر جس طرح اسوقت تھی کہ حضور اس عالم میں ظاہری نگاہوں کے سامنے تشریف فرما تھے اب بھی اسی طرح فرض اعظم ہے ، ————-

اگر حضور کو پکارے تو نام پاک کے ساتھ ندا نہ کرے کہ یہ جائز نہیں بلکہ یوں کہیے یا نبی اللہ یارسول اللہ یا حبیب اللہ –

হুযূর আলাইহিস্ সালামের সম্মান ও মর্যাদা যেমনি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এ জগতে প্রকাশ্য দৃষ্টির সামনে উপস্থিত থাকার ওই সময় ছিল, আজও তেমনি সম্মান জ্ঞাপন বড় ফরয তথা মহা কর্তব্য। ———-যদি হুযূর আলাইহিস্ সালামকে আহবান করে, তবে নাম ধরে ডাকবে না; যেহেতু তা জায়েয নেই, বরং এভাবে বলবে, ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’।

[সূত্র: বাহারে শরী’য়ত, জনাব মাওলানা মৌলভী হাকীম আবূল উলা আমজাদ আলী সাহেব আযমী রযভী সুন্নী হানাফী ক্বাদেরী বরাকাতী, প্রথম খণ্ড, ২১ পৃষ্ঠা।]

আবার ফিরে আসা যাক ধারাবাহিক আলোচনায়।

ষোড়শ:

وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَقَتَادَةُ: لَا تَدْعُوهُ بِاسْمِهِ كَمَا يَدْعُو بَعْضُكُمْ بَعْضًا يَا مُحَمَّدُ يَا إبن عَبْدَ اللَّهِ، وَلَكِنْ فَخِّمُوهُ وَشَرِّفُوهُ، فَقُولُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي لِينٍ وَتَوَاضُع،

এবং মুজাহিদ ও ক্বতাদাহ বলেন, তোমরা একে অপরকে যেভাবে ডাকো, সেভাবে তাঁকে নাম যোগে ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ ‘ইয়া ইবনা আব্দিল্লাহ’ ডেকো না। বরং তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে বিনয় ও কোমলতার সাথে ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলে ডাকো।

সূত্র: মু’আলিমুত তানযীল, আবূ মুহাম্মদ হুসাইন বিন মাসউদ আলবগভী (ইন্তিক্বাল: ৫১৬ হিজরী), পঞ্চম খণ্ড, ৬৬২ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org

সপ্তদশ:

وقوله تعالى: {لاَّ تَجْعَلُواْ دُعَآءَ الرسول بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً} أي: لا تخاطبوه كمخاطبة بعضكم لبعض، وأمرهم تعالى في هذه الآية وفي غيرها أنْ يدعوا رسول الله بأشرف أسمائه؛ وذلك هو مُقْتَضَى التوقير، فالأدب في الدعاء أنْ يقول: يا رسولَ اللّه، ويكون ذلك بتوقير وبِرٍّ، وخفض صوت، قاله مجاهد

মহান আল্লাহ তা’আলা’র বাণী, ‘ রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’। অর্থাৎ তাঁকে তোমাদের পরস্পরের সম্বোধনের মতো সম্বোধন করোনা। আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত ও অন্যান্য আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে তাঁর সেরা নামাবলী যোগে ডাকার নির্দেশ তাঁদের দিয়েছেন এবং ওটা সম্মান প্রদানের দাবিও বটে। অতএব আহবানের শিষ্টাচার হল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলা এবং তাও সম্মান ও সততার সাথে অনুচ্চ স্বরে। মুজাহিদ এ কথা বলেছেন।

[সূত্র: আলজাওয়াহিরুল হাস্সান ফী তাফসীরিল ক্বুরআন, আব্দুর রহমান আস্সালাবী (ইন্তিক্বাল: ৮৭৫ হিজরী), চতুর্থ খণ্ড,২০১ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org]

                             চলমান…..

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইয়া মুহাম্মাদু আহবান? [ ৩য় পর্ব ]

Update Time : ০৭:২০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

✍️ আল্লামা বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর

[ ৩য় পর্ব ]

প্রবন্ধের শিরোনামালোক আলোচনায় ইতোপূর্বে পনেরটি তাফসীর গ্রন্থের উদ্ধৃতি উদ্ধৃত হয়েছে। ইতোমধ্যে আমার এক শিক্ষকের নসিহত মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছিলেন, সহজবোধ্য ও সকলের নাগালের পুস্তকের তথ্য উপস্থাপন করবে,যাতে সকলে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। সুতরাং ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যখানে এমন একটি উদ্ধৃতি নিয়ে এলাম।

حضور کی تعظیم و توقیر جس طرح اسوقت تھی کہ حضور اس عالم میں ظاہری نگاہوں کے سامنے تشریف فرما تھے اب بھی اسی طرح فرض اعظم ہے ، ————-

اگر حضور کو پکارے تو نام پاک کے ساتھ ندا نہ کرے کہ یہ جائز نہیں بلکہ یوں کہیے یا نبی اللہ یارسول اللہ یا حبیب اللہ –

হুযূর আলাইহিস্ সালামের সম্মান ও মর্যাদা যেমনি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এ জগতে প্রকাশ্য দৃষ্টির সামনে উপস্থিত থাকার ওই সময় ছিল, আজও তেমনি সম্মান জ্ঞাপন বড় ফরয তথা মহা কর্তব্য। ———-যদি হুযূর আলাইহিস্ সালামকে আহবান করে, তবে নাম ধরে ডাকবে না; যেহেতু তা জায়েয নেই, বরং এভাবে বলবে, ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’।

[সূত্র: বাহারে শরী’য়ত, জনাব মাওলানা মৌলভী হাকীম আবূল উলা আমজাদ আলী সাহেব আযমী রযভী সুন্নী হানাফী ক্বাদেরী বরাকাতী, প্রথম খণ্ড, ২১ পৃষ্ঠা।]

আবার ফিরে আসা যাক ধারাবাহিক আলোচনায়।

ষোড়শ:

وَقَالَ مُجَاهِدٌ وَقَتَادَةُ: لَا تَدْعُوهُ بِاسْمِهِ كَمَا يَدْعُو بَعْضُكُمْ بَعْضًا يَا مُحَمَّدُ يَا إبن عَبْدَ اللَّهِ، وَلَكِنْ فَخِّمُوهُ وَشَرِّفُوهُ، فَقُولُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي لِينٍ وَتَوَاضُع،

এবং মুজাহিদ ও ক্বতাদাহ বলেন, তোমরা একে অপরকে যেভাবে ডাকো, সেভাবে তাঁকে নাম যোগে ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ ‘ইয়া ইবনা আব্দিল্লাহ’ ডেকো না। বরং তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে বিনয় ও কোমলতার সাথে ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলে ডাকো।

সূত্র: মু’আলিমুত তানযীল, আবূ মুহাম্মদ হুসাইন বিন মাসউদ আলবগভী (ইন্তিক্বাল: ৫১৬ হিজরী), পঞ্চম খণ্ড, ৬৬২ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org

সপ্তদশ:

وقوله تعالى: {لاَّ تَجْعَلُواْ دُعَآءَ الرسول بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً} أي: لا تخاطبوه كمخاطبة بعضكم لبعض، وأمرهم تعالى في هذه الآية وفي غيرها أنْ يدعوا رسول الله بأشرف أسمائه؛ وذلك هو مُقْتَضَى التوقير، فالأدب في الدعاء أنْ يقول: يا رسولَ اللّه، ويكون ذلك بتوقير وبِرٍّ، وخفض صوت، قاله مجاهد

মহান আল্লাহ তা’আলা’র বাণী, ‘ রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’। অর্থাৎ তাঁকে তোমাদের পরস্পরের সম্বোধনের মতো সম্বোধন করোনা। আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত ও অন্যান্য আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে তাঁর সেরা নামাবলী যোগে ডাকার নির্দেশ তাঁদের দিয়েছেন এবং ওটা সম্মান প্রদানের দাবিও বটে। অতএব আহবানের শিষ্টাচার হল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলা এবং তাও সম্মান ও সততার সাথে অনুচ্চ স্বরে। মুজাহিদ এ কথা বলেছেন।

[সূত্র: আলজাওয়াহিরুল হাস্সান ফী তাফসীরিল ক্বুরআন, আব্দুর রহমান আস্সালাবী (ইন্তিক্বাল: ৮৭৫ হিজরী), চতুর্থ খণ্ড,২০১ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org]

                             চলমান…..