০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইয়া মুহাম্মাদু আহবান? [২য় পর্ব]

  • মুক্তিধারা
  • Update Time : ১১:১৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৭৫ Time View

ইয়া মুহাম্মাদু আহবান?

✍️আল্লামা বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর 
(২য় পর্ব)
একাদশ:
او لا تجعلوا نداءه كنداء بعضكم بعضا باسمه ورفع الصوت به، مثل: يا أحمد ويا محمد، ولكن بلقبه المعظم مثل: يا نبي الله، و يارسول الله!
অথবা তাঁর (নবীর) আহবানকে নাম যোগে উচ্চ স্বরে তোমাদের পারস্পরিক আহবানের ন্যায় যেমন ‘ইয়া আহমাদু’ ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ নির্ধারণ করোনা; বরং সম্মানিত উপাধি যোগে ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ স্থির করো।
[সূত্র: আত্তাফসীরাতুল আহমদীয়্যাতু ফী বায়ানিল আয়াতিশ শারইয়্যাহ, শায়খ আহমদ বিন আবূ সাঈদ আলমা’রূফ মুল্লা জীওয়ান (ইন্তিক্বাল: ১১৩০হিজরী), ৫৬৩ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুবুল ইলমীয়্যাহ বায়রুত-লেবনান।]
দ্বাদশ:
وقال سعيد بن جبير ، ومجاهد : المعنى قولوا يا رسول الله ، في رفق ولين ، ولا تقولوا يا محمد بتجهم . وقال قتادة : أمرهم أن يشرفوه ويفخموه-
এবং সাঈদ বিন জুবাইর ও মুজাহিদ বলেন, আয়াতের মর্ম হলো, কোমলতা- নম্রতায় ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলো, কর্কশ কন্ঠে ‘ইয়া মুহাম্মদ’ বলোনা। এবং ক্বাতাদাহ বলেন, তাঁকে ( নবীকে) মর্যাদা- মাহাত্ম্য দেওয়ার নির্দেশ তাঁদের দিয়েছেন। 
[সূত্র:আলজামিউ লি-আহকামিল ক্বুরআনি (তাফসীরুল ক্বুরত্বাবীয়্যি), আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আলানসারী আলক্বুরত্ববী (ইন্তিক্বাল:৬৭১ হিজরী), দ্বাদশ খণ্ড,২৩১ পৃষ্ঠা, মাকতাবাতুস্সাফা।]
(যারা গিয়ারভী ও বারভী শরীফ পালন করেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে নাম ধরে ডাকা বেয়াদবি মনে করেন এমন হযারাতে কিরামের পন্থাবলম্বনের দাবিদার, তাদের জন্য উদ্ধৃত বারোটি উদ্ধৃতি যথেষ্ট। আশা করি মনোগ্রামের ন্যায় এখানেও ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ করে দেওয়া হবে।)
ত্রয়োদশ:
[ 14924 ] – حدثنا أبو زرعة ، ثنا منجاب بن الحارث ،أنبأ بشر بن عمارة ، عن أبي روق ، عن الضحاك ، عن ابن عباس ، في قوله: ” لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا قال: وكانوا يقولون: يا محمد يا أبا القاسم ، فنهاهم الله عن ذلك إعظاما لنبيه صلى الله عليه وسلم قال: فقالوا: يا نبي الله، يا رسول الله “
[ 14925 ] – حدثنا أبو سعيد الأشج ، ثنا أبو نعيم الأحول، عن إسرائيل، عن سالم الأفطس، عن سعيد بن جبير ، ” لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا قال: لا تقولوا: يا محمد، قولوا: يا رسول الله، يا نبي الله بأبي أنت وأمي “
[ 14926 ] – حدثنا حجاج بن حمزة ، ثنا شبابة ، ثنا ورقاء ، عن ابن أبي نجيح ، عن مجاهد : قوله: كدعاء بعضكم بعضا أمرهم أن يدعوا: يا رسول الله، في لين وتواضع، ولا يقولوا: يا محمد في تجهم “
[ 14927 ] – حدثنا محمد بن يحيى ،أنبأ العباس بن الوليد ، ثنا يزيد بن زريع ، ثنا سعيد ، عن قتادة : قوله: ” لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا أمر الله عز وجل أن يهاب نبيه صلى الله عليه وسلم وأن يبجل وأن يعظم وأن يسود “
[ 14928 ] – قرأت على محمد بن الفضل ، ثنا محمد بن علي ، ثنا محمد بن مزاحم ، ثنا بكير بن معروف ، عن مقاتل بن حيان : قوله: لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا يقول: لا تسموه إذا دعوتموه يا محمد ولا تقولوا: يا ابن عبد الله ، ولكن شرفوه فقولوا: يا رسول الله، يا نبي الله “
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহ তা‘আলা’র বাণী,  ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ ‘ ইয়া আবাল ক্বাসিম’ বলতেন, অতএব আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সম্মানার্থে তাঁদের নিষেধ করে দেন; সুতরাং তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ডাকেন।
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করোনা’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ বলোনা, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ,ইয়া নবীয়্যাল্লাহ আমার মা-বাবা আপনার ওপর উৎসর্গ’ বলো।
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী ‘তোমাদের পরস্পরের আহ্বানের ন্যায়’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বিনয়ের সাথে মৃদু স্বরে তাঁকে ‘ইয়া  রাসূলাল্লাহ’ ডাকার এবং কর্কশ কন্ঠে ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ না বলার নির্দেশ তাঁদের দিয়েছেন।
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় ক্বাতাদাহ থেকে আল্লাহ তা‘আলা’র বাণী,  ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর নবীকে মান- মর্যাদা, ভক্তি- শ্রদ্ধা, ইজ্জত- সম্মান ও মাহাত্ম্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবূ হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় মাক্বাতিল বিন হায়্যান থেকে আল্লাহ তা‘আলা’র বাণী,  ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাঁকে ডাকার সময় ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ নাম নিয়োনা এবং ‘ ইবনা আব্দিল্লাহ’ বলোনা; বরং তাঁকে সম্মান দিয়ে ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ বলো। 
[সূত্র: তাফসীরুল ক্বুরআনিল আযীমি, আবূ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইদরীস আত্তামীমী আলহানযালী আররাযী আশ্শাহীর বি-ইবনি আবী হাতিম (২৪০-৩২৭ হিজরী), অষ্টম খণ্ড, ২৬৫৫ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ্ শামিলাতুল হাদীসাহ, islamweb.net]
চতুর্দশ:
 
قال عز وجل: لاَّ تَجْعَلُوا دُعاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ يعني: لا تدعوا محمدا باسمه صلّى الله عليه وسلّم كَدُعاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً ولكن وقِّروه وعظموه، وقولوا: يا رسول الله، ويا نبي الله، ويا أبا القاسم. وفي الآية بيان توقير معلم الخير، لأن رسول الله صلّى الله عليه وسلّم كان معلّم الخير، فأمر الله عز وجل بتوقيره وتعظيمه،
আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন, ‘ তোমাদের পরস্পরের মাঝে রাসূলের আহবানকে স্থির করোনা’ অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে তাঁর নাম নিয়ে তোমাদের পরস্পরের আহবানের মতো আহবান করোনা; বরং তাঁকে সম্মান- মর্যাদা দাও, এবং ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া আবাল ক্বাসিম’ বলে ডাকো। আয়াতে কল্যাণের শিক্ষা-দীক্ষাদাতার মান-মর্যাদার বর্ণনা রয়েছে। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা কল্যাণ ও মঙ্গলের শিক্ষা- দীক্ষাদাতা, সেহেতু আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁকে সম্মান- শ্রদ্ধার নির্দেশ দিয়েছেন। 
[তাফসীরুস্ সামারক্বান্দী (বাহরুল উলূম),  আবূল্লাইস আস্সামারক্বান্দী ( ইন্তিক্বাল: ৩৮৩ হিজরী), দ্বিতীয় খণ্ড, ৫২৭ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org]
পঞ্চদশ:
 
وقال مجاهد وقتادة: لا تدعوه كما يدعو بعضكم بعضا: يا محمد، ولكن فخّموه وشرّفوه وقولوا: يا نبيّ الله، يارسول الله، في لين وتواضع.
এবং মুজাহিদ ও ক্বতাদাহ বলেন, তোমরা একে অপরকে যেভাবে ডাকো, সেভাবে তাঁকে ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ ডেকো না; বরং তাঁকে সম্মান-মর্যাদা দাও এবং বিনয় ও কোমলতার সাথে‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলে ডাকো। 
[আলকাশফু ওয়াল বয়ান, আবূ ইসহাক্ব আস্সা’লাবী ( ইন্তিক্বাল: ৪২৭ হিজরী), সপ্তম খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org]
   চলমান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইয়া মুহাম্মাদু আহবান? [২য় পর্ব]

Update Time : ১১:১৬:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

ইয়া মুহাম্মাদু আহবান?

✍️আল্লামা বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর 
(২য় পর্ব)
একাদশ:
او لا تجعلوا نداءه كنداء بعضكم بعضا باسمه ورفع الصوت به، مثل: يا أحمد ويا محمد، ولكن بلقبه المعظم مثل: يا نبي الله، و يارسول الله!
অথবা তাঁর (নবীর) আহবানকে নাম যোগে উচ্চ স্বরে তোমাদের পারস্পরিক আহবানের ন্যায় যেমন ‘ইয়া আহমাদু’ ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ নির্ধারণ করোনা; বরং সম্মানিত উপাধি যোগে ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ স্থির করো।
[সূত্র: আত্তাফসীরাতুল আহমদীয়্যাতু ফী বায়ানিল আয়াতিশ শারইয়্যাহ, শায়খ আহমদ বিন আবূ সাঈদ আলমা’রূফ মুল্লা জীওয়ান (ইন্তিক্বাল: ১১৩০হিজরী), ৫৬৩ পৃষ্ঠা, দারুল কুতুবুল ইলমীয়্যাহ বায়রুত-লেবনান।]
দ্বাদশ:
وقال سعيد بن جبير ، ومجاهد : المعنى قولوا يا رسول الله ، في رفق ولين ، ولا تقولوا يا محمد بتجهم . وقال قتادة : أمرهم أن يشرفوه ويفخموه-
এবং সাঈদ বিন জুবাইর ও মুজাহিদ বলেন, আয়াতের মর্ম হলো, কোমলতা- নম্রতায় ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলো, কর্কশ কন্ঠে ‘ইয়া মুহাম্মদ’ বলোনা। এবং ক্বাতাদাহ বলেন, তাঁকে ( নবীকে) মর্যাদা- মাহাত্ম্য দেওয়ার নির্দেশ তাঁদের দিয়েছেন। 
[সূত্র:আলজামিউ লি-আহকামিল ক্বুরআনি (তাফসীরুল ক্বুরত্বাবীয়্যি), আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আলানসারী আলক্বুরত্ববী (ইন্তিক্বাল:৬৭১ হিজরী), দ্বাদশ খণ্ড,২৩১ পৃষ্ঠা, মাকতাবাতুস্সাফা।]
(যারা গিয়ারভী ও বারভী শরীফ পালন করেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে নাম ধরে ডাকা বেয়াদবি মনে করেন এমন হযারাতে কিরামের পন্থাবলম্বনের দাবিদার, তাদের জন্য উদ্ধৃত বারোটি উদ্ধৃতি যথেষ্ট। আশা করি মনোগ্রামের ন্যায় এখানেও ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ করে দেওয়া হবে।)
ত্রয়োদশ:
[ 14924 ] – حدثنا أبو زرعة ، ثنا منجاب بن الحارث ،أنبأ بشر بن عمارة ، عن أبي روق ، عن الضحاك ، عن ابن عباس ، في قوله: ” لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا قال: وكانوا يقولون: يا محمد يا أبا القاسم ، فنهاهم الله عن ذلك إعظاما لنبيه صلى الله عليه وسلم قال: فقالوا: يا نبي الله، يا رسول الله “
[ 14925 ] – حدثنا أبو سعيد الأشج ، ثنا أبو نعيم الأحول، عن إسرائيل، عن سالم الأفطس، عن سعيد بن جبير ، ” لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا قال: لا تقولوا: يا محمد، قولوا: يا رسول الله، يا نبي الله بأبي أنت وأمي “
[ 14926 ] – حدثنا حجاج بن حمزة ، ثنا شبابة ، ثنا ورقاء ، عن ابن أبي نجيح ، عن مجاهد : قوله: كدعاء بعضكم بعضا أمرهم أن يدعوا: يا رسول الله، في لين وتواضع، ولا يقولوا: يا محمد في تجهم “
[ 14927 ] – حدثنا محمد بن يحيى ،أنبأ العباس بن الوليد ، ثنا يزيد بن زريع ، ثنا سعيد ، عن قتادة : قوله: ” لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا أمر الله عز وجل أن يهاب نبيه صلى الله عليه وسلم وأن يبجل وأن يعظم وأن يسود “
[ 14928 ] – قرأت على محمد بن الفضل ، ثنا محمد بن علي ، ثنا محمد بن مزاحم ، ثنا بكير بن معروف ، عن مقاتل بن حيان : قوله: لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا يقول: لا تسموه إذا دعوتموه يا محمد ولا تقولوا: يا ابن عبد الله ، ولكن شرفوه فقولوا: يا رسول الله، يا نبي الله “
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহ তা‘আলা’র বাণী,  ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ ‘ ইয়া আবাল ক্বাসিম’ বলতেন, অতএব আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সম্মানার্থে তাঁদের নিষেধ করে দেন; সুতরাং তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ডাকেন।
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করোনা’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ বলোনা, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ,ইয়া নবীয়্যাল্লাহ আমার মা-বাবা আপনার ওপর উৎসর্গ’ বলো।
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় মুজাহিদ থেকে আল্লাহর বাণী ‘তোমাদের পরস্পরের আহ্বানের ন্যায়’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বিনয়ের সাথে মৃদু স্বরে তাঁকে ‘ইয়া  রাসূলাল্লাহ’ ডাকার এবং কর্কশ কন্ঠে ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ না বলার নির্দেশ তাঁদের দিয়েছেন।
ইবনু আবী হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় ক্বাতাদাহ থেকে আল্লাহ তা‘আলা’র বাণী,  ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর নবীকে মান- মর্যাদা, ভক্তি- শ্রদ্ধা, ইজ্জত- সম্মান ও মাহাত্ম্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবূ হাতিম আপন শায়খ পরম্পরায় মাক্বাতিল বিন হায়্যান থেকে আল্লাহ তা‘আলা’র বাণী,  ‘রাসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরের একে অপরের আহবানের মতো গণ্য করোনা’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, তাঁকে ডাকার সময় ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ নাম নিয়োনা এবং ‘ ইবনা আব্দিল্লাহ’ বলোনা; বরং তাঁকে সম্মান দিয়ে ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ বলো। 
[সূত্র: তাফসীরুল ক্বুরআনিল আযীমি, আবূ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইদরীস আত্তামীমী আলহানযালী আররাযী আশ্শাহীর বি-ইবনি আবী হাতিম (২৪০-৩২৭ হিজরী), অষ্টম খণ্ড, ২৬৫৫ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ্ শামিলাতুল হাদীসাহ, islamweb.net]
চতুর্দশ:
 
قال عز وجل: لاَّ تَجْعَلُوا دُعاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ يعني: لا تدعوا محمدا باسمه صلّى الله عليه وسلّم كَدُعاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً ولكن وقِّروه وعظموه، وقولوا: يا رسول الله، ويا نبي الله، ويا أبا القاسم. وفي الآية بيان توقير معلم الخير، لأن رسول الله صلّى الله عليه وسلّم كان معلّم الخير، فأمر الله عز وجل بتوقيره وتعظيمه،
আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন, ‘ তোমাদের পরস্পরের মাঝে রাসূলের আহবানকে স্থির করোনা’ অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে তাঁর নাম নিয়ে তোমাদের পরস্পরের আহবানের মতো আহবান করোনা; বরং তাঁকে সম্মান- মর্যাদা দাও, এবং ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া আবাল ক্বাসিম’ বলে ডাকো। আয়াতে কল্যাণের শিক্ষা-দীক্ষাদাতার মান-মর্যাদার বর্ণনা রয়েছে। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা কল্যাণ ও মঙ্গলের শিক্ষা- দীক্ষাদাতা, সেহেতু আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁকে সম্মান- শ্রদ্ধার নির্দেশ দিয়েছেন। 
[তাফসীরুস্ সামারক্বান্দী (বাহরুল উলূম),  আবূল্লাইস আস্সামারক্বান্দী ( ইন্তিক্বাল: ৩৮৩ হিজরী), দ্বিতীয় খণ্ড, ৫২৭ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org]
পঞ্চদশ:
 
وقال مجاهد وقتادة: لا تدعوه كما يدعو بعضكم بعضا: يا محمد، ولكن فخّموه وشرّفوه وقولوا: يا نبيّ الله، يارسول الله، في لين وتواضع.
এবং মুজাহিদ ও ক্বতাদাহ বলেন, তোমরা একে অপরকে যেভাবে ডাকো, সেভাবে তাঁকে ‘ইয়া মুহাম্মাদু’ ডেকো না; বরং তাঁকে সম্মান-মর্যাদা দাও এবং বিনয় ও কোমলতার সাথে‘ইয়া নবীয়্যাল্লাহ’ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলে ডাকো। 
[আলকাশফু ওয়াল বয়ান, আবূ ইসহাক্ব আস্সা’লাবী ( ইন্তিক্বাল: ৪২৭ হিজরী), সপ্তম খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠা, আলমাকতাবাতুশ শামিলাতুল হাদীসাহ, al-maktaba.org]
   চলমান