বোরহান উদ্দিন মুহাম্মদ শফিউল বশর
বিবেকের দংশনে গেল ০২/০৮/২০২৪ জুমু‘আর আলোচনায় কিছু কথা বলেছিলাম, জনতাম কারো কর্ণে পশিবেনা; তবুও বলেছিলাম। সেই বক্তব্যের সারসংক্ষেপ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ইরশাদ করেন,
”اتق دعوة المظلوم، فإنها ليس بينها وبين الله حجاب”.
“অত্যাচারিতের আভিশাপকে ভয় করো; কেননা তা (মযলূমের দু‘আ) ও আল্লাহর মধ্যখানে কোন আড়াল নেই”।
আল্লাহ তা‘আলা বান্দার ভালো-মন্দ প্রতিটি কর্মের প্রতিদান দিবেন। ইরশাদ হচ্ছে,
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে।
وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল ৭-৮ নং আয়াত)।
ছোট-বড় সবধরনের জুলুমের বিচার শেষদিন অবশ্যই হবে। আল্লাহ ও শেষ বিচারে বিশ্বাসী কেউ কোন জুলুমকেই লঘু জ্ঞান করতে পারে না।
আল্লাহ ছাড় দেন (শুধরানোর জন্য) কিন্তু ছেড়ে দেননা। ইরশাদ হচ্ছে,
وَلاَ تَحْسَبَنَّ اللّهَ غَافِلاً عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الأَبْصَارُ
জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না, তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে। ( সূরা ইব্রাহীম ৪২ নং আয়াত)।
জ্ঞাতব্য যে, আল্লাহর শাস্তি কেবল যালিমকে নয়, বরং জুলুমে জালিমকে সমর্থনকারীকেও গ্রাস করে। ইরশাদ হচ্ছে,
وَلاَ تَرْكَنُواْ إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللّهِ مِنْ أَوْلِيَاء ثُمَّ لاَ تُنصَرُونَ
আর জালিমদের প্রতি ঝুঁকবে না; নতুবা আগুন (জাহান্নামের আগুন) তোমাদেরকেও ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নেই; অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না। (সূরা হূদ ১১৩ নং আয়াত)।
হাদীসে পাকে এসেছে,
عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم “ من اعان على خصومة بظلم – او يعين على ظلم – لم يزل في سخط الله حتى ينزع ” .
ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি কারো যুলুমমূলক মামলায় সহযোগিতা করে অথবা যুলুমে সহায়তা করে, তা থেকে নিবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত সর্বদাই সে আল্লাহর গযবে নিপতিত থাকে” সুনানে ইবনু মাজাহ্।
হাদীসে পাকে আরো এসেছে,
عن كعب بن عجرة، قال خرج الينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن تسعة خمسة واربعة احد العددين من العرب والاخر من العجم فقال “ اسمعوا هل سمعتم انه سيكون بعدي امراء فمن دخل عليهم فصدقهم بكذبهم واعانهم على ظلمهم فليس مني ولست منه وليس بوارد على الحوض ومن لم يدخل عليهم ولم يعنهم على ظلمهم ولم يصدقهم بكذبهم فهو مني وانا منه وهو وارد على الحوض-
কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আমাদের সামনে আসলেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম নয়জন; পাঁচজন আরব এবং চারজন অনারব অথবা এর বিপরীত। তিনি বললেনঃ “তোমরা শোন, তোমরা কি শুনেছ? খুব শীঘ্রই আমার পরে এমন কিছু সংখ্যক শাসক আবির্ভূত হবে, যে লোক তাদের সংস্পর্শে গিয়ে তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে এবং তাদেরকে অত্যাচারে সহায়তা দান করবে সে আমার দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলে অন্তর্ভুক্ত নই। আর সে ব্যক্তি হাওযে কাওসারে আমার সামনে পৌছতে পারবে না। আর যে লোক তাদের সংস্পর্শে যাবে না, তাদের অত্যাচারে সহায়তা দান করবে না এবং তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে না, সে আমার এবং আমিও তার। সে হাওযে কাওসারে আমার সাক্ষাৎ লাভ করবে” তিরমীযী শরীফ।
রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আরো ইরশাদ করেন,
من أعان باطلا ليدحض بباطله حقا، فقد برئت منه ذمة الله، وذمة رسوله صلى الله عليه وسلم
“যে ব্যাক্তি হক্বকে বাতিলে পর্যবসানে বাত্বিলের সাহায্য করে, অবশ্যই তার থেকে আল্লাহ ও রাসূলের যিম্মাদারিত্ব উঠে যায়” মুস্তাদরাক।
মায়মূন বিন মিহরান বলেন,
“الظالم والمعين على الظلم والمحب له سواء”
“অত্যাচারী, অত্যাচারে সাহায্যকারী ও তা পছন্দকারী সমান”।
কুরআন প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ জুলুমে লিপ্তদের অপরাধী ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ
“নিশ্চয় ফেরাউন, হামান, ও তাদের সৈন্যবাহিনী অপরাধী ছিল” সূরা ক্বাসাস ৮ নং আয়াত।
উপসংহারে বলেছিলাম, আমার দেশের প্রচুর মানুষের প্রাণ গিয়েছে, সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এই ভারে দেশ ন্যুব্জ, আরো ভার বইবার শক্তি নেই এই বাংলার; সুতরাং দাড়ি (পূর্ণ বিরতি) জরুরি।
সকলের প্রতি আহবান ছিল, সংঘাত পরিহার করে সংলাপে সমাধান খুঁজুন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ ছিল, সকলকে শুভবুদ্ধি দিন।
এই পাপী বান্দার কথা না আল্লাহর দরবারে কবুল হল, না জাতির কানে প্রবেশিল!
পরবর্তী দিন গুলোতে ফের কি ঘটেছিল কিংবা ঘটছে, সকলের জানা।
একটি বিষয় কিন্তু পরিষ্কার, ক্ষমতা পেলে খুব কম মানুষই নিজের ফেরাউনিয়াতকে দমিয়ে রাখতে পারে; মযলূমও জালিম হয়ে ওঠতে পারে। এই ফেরাউনী স্বভাবকে বশ্য না করতে পারলে সামনেই নীলনদ! মনে রাখতে হবে, ইতিহাস ফের রিপিট হতে পারে।
পুনশ্চ: আল্লাহ ছাড় দেন (শুধরানোর জন্য) কিন্তু ছেড়ে দেননা। ইরশাদ হচ্ছে,
وَلاَ تَحْسَبَنَّ اللّهَ غَافِلاً عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الأَبْصَارُ
জালেমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না, তাদেরকে তো ঐ দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে। ( সূরা ইব্রাহীম ৪২ নং আয়াত)।